বড় শিল্পপতিদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে বেশি, ফেরত দিচ্ছেন কম

0

(সংবাদ প্রকাশ) বড় শিল্পপতিদের কাছে প্রতিযোগিতা করে ঋণ বিতরণ বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। তারা মোট ঋণের প্রায় ৭৮ শতাংশই তুলে দিয়েছে বড় শিল্পপতিদের পকেটে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায় করতে পারছে না। বড় শিল্পপতিদের যে হারে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় শিল্প খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ। কিন্তু তাদের কাছ থেকে আদায় বেড়েছে ১৫ শতাংশ হারে। অন্যদিকে শিল্পপতিদের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের শিল্পঋণসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিল্পপতিদের ব্যাংকগুলো তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল তিন লাখ ৬৭২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪৫ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে ব্যাংকগুলো আদায় করেছে দুই লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।সময়মতো পরিশোধ না করায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ছিল ৪৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, যা বিতরণ বৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি।শিল্পপতিরা ফেরত না দেওয়ায় খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ২৬ শতাংশ। গত অর্থবছর শেষে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনেক আগে থেকেই শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেশি। এ ছাড়া ২০১৫ সালে পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করে খেলাপি ঋণ কমানো হয়। যেগুলোর প্রায় অধিকাংশই আবার খেলাপি হয়ে গেছে। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো। সম্প্রতি এসব রিট নিষ্পত্তি হওয়ায় তা খেলাপির খাতায় যোগ হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হচ্ছে, তা আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই রয়েছে বড় শিল্পপতিদের পকেটে। আবার বড় শিল্পপতিদের খেলাপি হওয়ার প্রবণতাও বেশি। গত অর্থবছরে বড় শিল্পপতিদের কাছে খেলাপি ঋণ রয়েছে ১১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, যা শিল্প খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৩১ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের তুলনায় বড় শিল্পপতিদের খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। মাঝারি শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র শিল্পে খেলাপি ঋণ রয়েছে পাঁচ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।বড় শিল্পপতিদের খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ বিতরণ বাড়িয়েছে। গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তার ঋণ পাওয়ার হার বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ব্যাপকহারে বৃদ্ধির পরও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ঋণ পেয়েছেন মাত্র ৩২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। মাঝারি উদ্যোক্তাদের আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি ঋণ দিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। আর মোট ঋণের প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোগ করছেন বড় শিল্পপতিরা। গত বছর তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ ১৪ শতাংশ বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। বড় শিল্পপতিরা সর্বমোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন গত অর্থবছরে।

Share.

About Author

Leave A Reply