ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

0

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত থেকে জামিন নেওয়ার জন্য এতোদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

আজ রবিবার গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগেও তিনি জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গেছিলেন। তবে সেখানে তাকে দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেপ্তার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেমকে সাদা পোষাকে ডিবির একটি দল আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় দেখা যায় তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) চুল, দাড়ি রেখেছেন অনেক বড়। প্রথমবারে যে কেউ দেখলে তাকে চিনতে পারবে না।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, শাহবাগ থানাধীন কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি সেখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, উচ্চ আদালতের সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। গ্রেপ্তারের পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে। তাকে ফেনীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ মামলা করেন। এই মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি।

গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

Share.

About Author

Leave A Reply