সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত, প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭১ জন

0

সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক: ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নেত্রকোনা জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত আটজন রোগী নেত্রকোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লো। আর সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে পুরো ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫১৩ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ৭১ জন ডেঙ্গুরোগী। সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগীর।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

যদিও সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে বলেছিলেন, নেত্রকোনা বাদে সারাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ অধিদপ্তরের আপডেট তথ্যমতে জানা গেলো, নেত্রকোনাও বাদ গেলো না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৫১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে পাঁচ হাজার ৮৩৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৬১ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২১ জুন এক দিনে ৬৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ৪১ দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে প্রায় ২৬ গুণ।

এদিকে, ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এক দিনের হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪৬৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের সব সরকারি হাসপাতাল ও প্রায় ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোর রোগীর হিসাব জমা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এছাড়া ঢাকা শহরে আরও অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও সারাদেশের আরও সরকারি হাসপাতাল  রয়েছে, যেখানকার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিদিন জমা হয় না। সে অনুসারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে, ডেঙ্গুতে এ মৌসুমে ‘সঠিক’ মৃত সংখ্যার হিসাব নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। অধিদপ্তরের মতে এই মৌসুমে ১৪ জনের মৃত্যু হলেও সারাদেশের হাসপাতালগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী এ সংখ্যা ৫০ জনের অধিক।

এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করি রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি-না। অনেকবার অনেকভাবে সাক্ষীদের ইন্টারভিউ নিয়ে নিশ্চিত হতে হয় যে মৃত্যুটা আসলে হাসপাতালে কীভাবে হয়েছে। সে কার্যক্রম আমাদের চলমান রয়েছে। আমাদের হিসাবে এ মৌসুমে মোট ১৪ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো আসলে কতোজন এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুও অন্য কারণে হতে পারে। এসব নির্ণয় করতেই আমাদের ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়।

অপরদিকে, রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হাঁপিয়ে উঠছেন চিকিৎসক, নার্সসহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের করিডোর, বারান্দা এমনকি চলার পথের দুপাশ দিয়েও বিছানা পেতে রোগীদের রাখা হয়েছে। যার অধিকাংশই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি না থাকায় রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া আতঙ্কের কারণে এখন সুস্থ মানুষও ডেঙ্গু নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

Share.

About Author

Leave A Reply